মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
সাড়ে ৩ মাসেও নিখোঁজ রত্নাকে উদ্ধার করতে পারেনি মাগুরা পুলিশ। বিশেষ এজেন্সিকে মামলা দেওয়ার দাবি অডিট ক্যাডারের সোহেল আহমেদের দুর্নীতির পাহাড়: ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের অভিযোগ কসবায় ভুয়া জন্ম নিবন্ধনের দায়ে এক মাসের কারাদণ্ড কসবায় ২৪ ঘণ্টা মানসম্মত চিকিৎসাসেবার প্রত্যয়ে মডেল হসপিটালের যাত্রা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া: বাংলাদেশের কূটনৈতিক চিন্তা, জাতীয় স্বার্থ ও বৈশ্বিক অবস্থানের পাঠ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বিশ্ববাঙালি সংসদ শারদ সম্মাননা পেলেন ৯ গুণীজন মাগুরার নিখোঁজ রত্নাকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। মামলা অন্য কোনো এজেন্সি বা সংস্থায় হস্তান্তর দাবি ট্রাফিক স্কুলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী পালন সবার আগে বাংলাদেশ শীর্ষক টিডিএসে ফ্রি চক্ষু সেবা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত কসবায় ব্যাংকার্স ফোরামের বিদায় বরণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান এবং উপদেষ্টা মন্ডলী গঠন
সাড়ে ৩ মাসেও নিখোঁজ রত্নাকে উদ্ধার করতে পারেনি মাগুরা পুলিশ। বিশেষ এজেন্সিকে মামলা দেওয়ার দাবি

সাড়ে ৩ মাসেও নিখোঁজ রত্নাকে উদ্ধার করতে পারেনি মাগুরা পুলিশ। বিশেষ এজেন্সিকে মামলা দেওয়ার দাবি

হাসনাইন সাজ্জাদী।। মাগুরা সদরের পশু হাসপাতাল পাড়ার রত্না খাতুন (৪৫) (পিতামৃত আফসার খান) নিখোঁজ হয়েছেন গত ৪ জুলাই। আজ সাড়ে ৩ মাস গত হলেও সন্ধান পায়নি মাগুরা সদর থানার পুলিশ। এদিন সন্ধ্যা ৭টা ১মিনিটে নিখোঁজ হন রত্না। তিনি দেখা করতে গিয়েছিলেন বাতিকাডাঙ্গা অস্থায়ী কালীমন্দির সংলগ্ন আক্কাস আলী শেখের সঙ্গে। তার দোকানের নিকট গিয়ে তিনি মোবাইলে ১১সেকেন্ড কথা বলেন। তারপর থেকেই তার মোবাইল বন্ধ ও তিনি নিখোঁজ হন। এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানায় জিডি করেন তার ছোট বোন স্বপ্না। পরবর্তীসময়ে মামলাও হয়। এডিশনাল ডিআইজি (ক্রাইম রেঞ্জ) বাংলাদেশ পুলিশকে খুলনা রেঞ্জের বিষয়টির অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডি অথবা পিবিআইকে তদন্তভার দেওয়ার জন্য মাগুরা পুলিশের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়। কিন্তু ডিআইজি খুলনা রেঞ্জ থেকে তা সদর দপ্তরে না পাঠিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এখনো তা সদর দপ্তরে পাঠানো হয়নি।

রত্না খাতুনের ছোট বোন স্বপ্না আক্তার বাদী হয়ে জিডি করেন ও পরে অভিযোগ দায়ের করেন। জিডি নাম্বার ৫৪৫ তাং -৮/৭/২০২৬। অভিযোগের নাম্বার হয় না বলে পুলিশ তাদেরকে জানিয়েছে। তারপর মামলা করা হয়। মামলা নং -৩৮ তাং ১৩/ ৮/ ২৬ খ্রিষ্টাব্দ। ১৪ /৮/২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে পুলিশ একটি সামারি তৈরি করে। যার স্মারক নং -৬০৮৩(৩)১।
অভিযোগপত্রে সরাসরি রত্না খাতুনের স্বামী ফারুককে বিবাদী করা হয়েছে। আক্কাসের পরিচিত জনৈক ফারুক (পিতা হিরণ মোল্লা,ঠিকানা খাসকান্দি থানা ও জেলা ফরিদপুর)-এর সঙ্গে রত্না খাতুনের মোহরানা ও যৌতুক মামলা আদালতে বিচারাধীন। মামলা নং -সিআর ১৫৭৭/২৫। তাই ফারুককে বিবাদী করা হয়। পুলিশ আক্কাস, ফারুক সহ আরো কয়েকজনকে ধরে এনে তদন্ত করেও কিছু উদ্ধার করতে পারেনি। এদিকে রত্না খাতুনের বিলেত প্রবাসী মেয়ে ইসমত আরা আঁচল তার মায়ের সন্ধান বের করার জন্য বৃটেনস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনেও ই মেইলে আবেদন জানিয়েছেন। জানা গেছে রত্না খাতুন ডায়বেটিসের রোগী। তিনি পথ ভুলে কোনদিকে গেলেও ঔষধ ছাড়া এতদিন তার সুস্থ থাকার কথা নয়। কেউ আটকে রাখলেও ঔষধের খরচ যোগানো কঠিন। তাকে হত্যা করে লাশ গায়েব করে দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। মাগুরা পুলিশ যেহেতু কোনো তথ্য বের করতে পারেনি তাই এটা সিআইডি বা পিবিআইকে দেওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগেত্রে বিবাদী করা ফারুক রত্না খাতুনের সাবেক স্বামী। কয়েক বছর আগে তিনি রত্না খাতুনের নিকট যৌতুক হিসেবে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন এবং তাকে মারধর করেন বলে কোর্টে চলমান একটি মামলার এজাহার থেকে জানা যায়। পরে ফারুক তাকে তালাক দেন এবং নতুন করে অন্য একজনকে বিয়ে করেন। তারপরই রত্না খাতুন তাকে আসামী করে মামলা দায়ের করলে ফারুক ও তার বর্তমান স্ত্রী দ্বারা নানা ধরনের হুমকির মধ্যে ছিলেন। তারা টেলিফোনে রত্না খাতুনকে নানা হুমকি দিয়ে আসছিল।পুলিশকে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সাড়ে ৩ মাসাধিকাল অতিবাহিত হলেও নিখোঁজ রত্নার সন্ধান বের করতে পারেনি মাগুরা পুলিশ। মামলাটি পিবিআইকে হস্তান্তরের দাবি রত্নার প্রবাসী কন্যা আঁচলের।

জানা গেছে, রত্না খাতুন যখন তার পশু হাসপাতাল পাড়ার বাসা থেকে বের হন তখন এক প্রতিবেশী তার নিকট জানতে চান তিনি কোথায় যান। জবাবে তিনি বলেন, আমি বাজার আনতে যাই।

তারপর সন্ধ্যা ৭.০১ মিনিটে তিনি বাতিকাডাঙ্গার সেনিটারি মিস্ত্রি ও চুলা বিক্রেতা আক্কাস আলী শেখকে মোবাইল দেন। তার দোকানের নিকট গিয়ে তিনি মোবাইলে তার সঙ্গে ১১সেকেন্ড কথা বলেন। তারপর থেকেই তার মোবাইল বন্ধ ও তিনি নিখোঁজ হন।

মোবাইলে তিনি আক্কাসকে বলেন ভাই ‘আপনি কোথায়? আমি আপনার দোকানে এসেছি।’ আক্কাস বলে আমি আসছি। আপনি একটু অপেক্ষা করুন। তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই রত্না খাতুনের মোবাইল বন্ধ হয়ে যায়।

রত্না খাতুনের একমাত্র মেয়ে বৃটেন প্রবাসী। তিনি জানান, এই আক্কাস আলী শেখ সেনিটারি মিস্ত্রি ও চুলা বিক্রেতা। তার নিকট থেকে নিখোজ রত্না খাতুন বেশ কয়েক বছর আগে একটি চুলা কিনেন। এই সূত্রে তার সঙ্গে তিনি পরিচিত। এই আক্কাস রত্না খাতুনের সাবেক স্বামী ফারুকেরও পরিচিত। চুলার দাম রত্না খাতুন অনেক আগেই পরিশোধ করেছেন। এটা আঁচল জানেন। আঁচল জানান, এখন আক্কাস আলী শেখের সঙ্গে নিখোঁজ রত্না খাতুনের কী কাজ থাকতে পারে- তার জবাবে সে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করে চলেছে। সে চুলার বকেয়া ১ হাজার টাকা দিতে গেছেন বলে জানায়। কিন্তু এ টাকা তো অনেক বছর আগেই পরিশোধ করা হয়েছে। টেলিফোনালাপের সূত্র ধরে আক্কাসকে মাগুরা থানা পুলিশ একাধিকবার থানায় নিয়ে গেলেও তার নিকট থেকেও কোনো তথ্য বের করতে না পেরে প্রতিবারই তাকে ছেড়ে হয়েছে। এভাবে ফারুক সহ আরো কয়েকজনকে পুলিশ বিভিন্ন সময় ধরে তথ্য বের করতে না পেরে ছেড়ে দিয়েছে। এখন সংস্থা ধারা তদন্ত দরকার।
মামলাটি সিআইডি বা পিবিআইতে স্থানান্তরে সদর দপ্তরে নোট পাঠানোর জন্য মাগুরা পুলিশের আবেদন মতো ডিআইজি খুলনা রেঞ্জের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন আঁচল।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




raytahost-demo
© All rights reserved © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD